মেঘের রাজ্য সাজেক ও প্রকৃতির রানী খাগড়াছড়ি

From Coolinventor Wiki


                                ২ দিনের ট্রিপ মেঘের রাজ্যে সাজেক  

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে পূজার ছুটি ছিল। তখনই প্লেন হয়ে যায় সাজেক যাবার। আমরা ১১ জন গিয়েছিলাম। বাস র টিকেট কেটেছিলাম খাগরাছরির জন্য। রাত ১২ টা তে রউনা দিয়েছিলাম। ৩ঃ৩০ এ কুমিল্লা তে বিরতি নিয়েছিলাম। সকাল ৭ঃ৩০ তাই পৌঁছেছিলাম। মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম খাগড়াছড়ির প্রকৃতি র সৌন্দর্যে দেখে। পাহাড় র পাহাড় র চারপাশে কলা গাছ।

58379270 860160164330851 6548990382326153216 n.jpg


আমরা উঠেছিলাম পর্যটন মোটেল এ। আমরা আগেই একটি চান্দের গাড়ি ভাড়া করে রেখেছিলাম। ভাড়া ৩ দিন র জন্য নিয়েছিল ৮ হাজার টাকা। আমরা নাস্তা সেরে এ চলে যাই প্রথমে নিউজিল্যান্ড, আমরা অনেক উঁচু পাহাড় এ। তারপর আমরা যাই আলু টিলা গুহা এ। আমরা অনেক সিরি পারিয়ে নিচে যাই, এবং গুহা অনেক অন্ধকার, এবং ওখানে ঝর্না র পানি, আমরা মশাল নিয়ে গুহা পার করেছি।

58441502 440767873341911 396721679545401344 n.jpg

আলুটিলা পাহাড় খাগড়াছড়ির অন্যতম সুন্দর জায়গা। এটি খাগড়াছড়ির প্রবেশপথে অবস্থিত। আলুটিলার উচ্চতা মাটি থেকে 3000 ফিটের কাছাকাছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসারের সময়, লোকেরা নিজেদের খাদ্য খাওয়ার জন্য আলু সংগ্রহ করতে এসেছিল। সেই সময় থেকে এটি আলটিলা নামে পরিচিত ছিল। এই টিলা একটি গুহা আছে। এটি আলটিলা গুহা বলা হয়। গুহা দৈর্ঘ্য 250 ফিট। গুহা জুড়ে 10 থেকে 15 মিনিট সময় লাগে। এই গুহা এন্ট্রি ফি শুধুমাত্র 5 টাকা। আপনি এই জায়গা ভ্রমণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভোগ করতে পারেন। ভ্রমণ মন রিফ্রেশমেন্ট জন্য ভাল সমাধান গাইড। আপনি হাঁটার সময় আপনাকে একটি মশাল প্রয়োজন এবং আপনি গুহা পেতে হবে। হাঁটা যখন আপনি আপনার পদচিহ্ন সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে।

59295696 406675016730995 4860919178158145536 n.jpg


আমরা এবার যাই ঝুলন্ত ব্রিজ এ। এটি একটি পার্কের মত। এখানে মুল আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রিজ। আমরা খাগড়াছড়ি মন্দির তাও দেখতে যাই।

22140920 1501780139912315 2356707590221802690 n.jpg


খাগড়াছড়ি মন্দির খাগড়াছড়ি জেলার প্রাচীনতম মন্দির। এটি পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ জায়গা। লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির: খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত হিন্দু দেবতা লক্ষ্মী নারায়ণকে এই মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়। সত্যিই এটি ভ্রমণ করার জন্য এত সুন্দর জায়গা। আপনি এই স্থান ভ্রমণ যখন আপনি আপনার জীবনের একটি আকর্ষণীয় সময় পাস করতে পারেন। আপনি যদি প্রথমে এই মন্দির পরিদর্শন করতে চান তবে আপনাকে চট্টগ্রাম বা খাগড়াছড়িতে পৌঁছাতে হবে। তারপর সরাসরি মন্দির যেতে। এটি খাগড়াছড়ি জেলার প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। প্রতি বছর পর্যটক প্রচুর এই মন্দির দেখার জন্য আসে। ফুলকোলি হাতির কবর: ফুলকোলি একটি হাতির নাম। এই হাতিটির মালিক খাগড়াছড়ির ডিসি ছিলেন সেই সময়। 1990 সালে এই হাতি আলটিলা পাহাড় থেকে নেমে আসে এবং মারা যায়। এটি কবর শূন্য বিন্দু ছাড়াও অবস্থিত।

22089159 1501080739982255 4662970787377222661 n.jpg

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল চাদের গাড়িতে মানুষ উপরে উথেও যায়।

এবাভে আমাদের সারাদিন কেটে যায়, আমরা সন্ধাই হোটেল র সৌন্দর্য দেখি, এবং ওখান কার বাঁশের র বিরিয়ানি ভোগ করি।

আমরা পরদিন চলে যাই, সাজেক র উদ্দেশে, সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ ।[১] সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত । সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ; যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । এখানে সাজেক বিজিবি ক্যাম্প অবস্থিত । সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প । বিজিবি সদস্যদের সুষ্ঠ পরিকল্পনায় , বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের দ্বারাই বর্তমান সাজেকের এই ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে । বর্তমানে সাজেকে ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্য প্রায় সকল ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় । সারাবছরই সাজেক যাওয়া যায়। আর সাজেকে পাহাড়ধস বা রাস্তাধস এরকম কোন ঝুকি নেই । সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত । ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট । আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত । সাজেকে মূলত লুসাই ,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে । সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত । রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে । তাই সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ

22089436 1501080483315614 3081300418564594420 n.jpg


22141179 1501080446648951 3866577490338606797 n.jpg
58570751 350945255534367 6171743278501724160 n.jpg

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার । আর দীঘিনালা থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার । রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক যাওয়া যায় । সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ি থেকে । খাগড়াছড়ি শহর অথবা দীঘিনালা হতে স্থানীয় গাড়িতে ( জিপ গাড়ি , সি.এন.জি , মটরসাইকেল ) করে সাজেকে যাওয়াই হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম । এক্ষেত্রে পথে পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প । সেখান থেকে ভ্রমণরত সদস্যদের তথ্য দিয়ে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে । একে আর্মি এসকর্ট বলা হয় । আর্মিগণের পক্ষ থেকে গাড়িবহর দ্বারা পর্যটকদের গাড়িগুলোকে নিরাপত্তার সাথে সাজেক পৌছে দেয়া হয় । দিনের দুইটি নির্দিষ্ট সময় (সকাল ১০:৩০ এবং বিকাল ৩:৩০) ব্যতীত আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ হতে সাজেক যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না । পর্যটকদের সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয় । সাজেকগামী জিপ গাড়িগুলো স্থানীয়ভাবে চান্দের গাড়ি নামে পরিচিত । সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাটে হাজাছড়া ঝর্ণা অবস্থিত । অনেক পর্যটকগণ মূল রাস্তা হতে সামান্য ট্রেকিং করে গিয়ে ঝর্ণাটির সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকেন ।


22154147 1501080519982277 4530797572817244982 n.jpg
58602854 426763258113101 1146817857863024640 n (1).jpg

সাজেক থেকে আসার সময় আমরা হাজা ছরা ঝর্নাই যাই। আসার এবং যাওয়ার সময় সাজেক এ, রাখাল পারা এ ছোট ছোট বাচ্চারা দাড়াই থাকে, আমরা অনেকে এ তাদের চকলেট ছুরে দিতাম। এটা পাহারি বাচ্চাদের সবাই আদর করে দেই। সাজেক এ পানি অথবা বিদ্যুতের কোন বেবস্থা নেই, তারা দূর নদী থেকে পানি আনে, এবং সৌর বিদ্যুৎ র সাহায্যে চলে। আর্মিরা একসাথে ১২-১৪ টি গাড়ি নিয়ে যায়, সবাইকে তাদের তত্ত্বাবধানে রেখে। সিকুরিটি র অবস্থা যথেষ্ট ভাল। আমরা হেলিপেদ ও দেখতে পাই।

22089983 1501780229912306 841480470119212112 n.jpg
22089317 1501080603315602 2105385050206360916 n.jpg

আমরা খুব ভোরে উঠি, আমাদের মাথার উপর দিয়ে মেঘ খেলা করছিল। আমরা ছুতে পারছিলাম। ওখানে আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকলেও প্রকৃতি র অপুরুপ সৌন্দর্য র সীমা নেই। মনে হয় যেন মন এ ফিরে পেয়েছি অমলিন প্রশান্তি।

আমরা আসার সময় সেন্ট মারতিন পরিবহন এ চলে আসি ঢাকা র উদ্দেশে। আমি কখনও এই ট্রিপ র কথা ভুলবনা।